Thursday, February 10, 2011

আগে ডাক্তার পরে বিয়ে

আগে ডাক্তার পরে বিয়েবিয়ে শব্দটির সঙ্গে রোমাঞ্চকর সুখানুভূতি জড়িয়ে আছে। কিন্তু বিয়ে শুধু দুটি মানুষের মধ্যে মিলনই নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁদের পরিবার এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা এই আনন্দকে ম্লান করে দিতে পারে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিভাগের কনসালট্যান্ট
ডা. মুশাররাত সুলতানা সুমীর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন_ডা. জিয়াউল হক

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে হবু স্বামী-স্ত্রী এবং তাঁদের পরিবারের স্বাস্থ্যসম্পর্কিত তথ্য যাচাই করে এমন একটি পরিবার তৈরি করার, যাতে তাঁরা উপভোগ করবেন নির্ভার-নিশ্চিন্ত জীবন, আবার তাঁদের ভবিষ্যৎ বংশধররাও হবে অনেক রোগ থেকে মুক্ত ও স্বাস্থ্যবান।সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষাছেলেমেয়ের বয়স বেশি না কম, শারীরিক উচ্চতা, ওজন, রক্তচাপ, মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিকের কোনো সমস্যা, হেপাটাইটিসসহ সব টিকা দেওয়া আছে কি না, বিড়ি-সিগারেট, মদ-গাঁজা বা অন্য কোনো নেশা করে কি না,মানসিক অবস্থা ঠিক আছে কি না জেনে নিতে হবে।বিয়ের ক্ষেত্রে বয়স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছেলেদের ক্ষেত্রে বেশি বয়সে বিয়ে হলে ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যত্ব হতে পারে। বিদেশে পরিচালিত কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি বয়সী বাবাদের সন্তানদের বেশ কিছু সমস্যা হতে পারে। মেয়েদের বেশি বয়সে বিয়ে হলে সন্তান শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়াসহ জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম নিতে পারে। মেয়েদের ক্ষেত্রে বলা হয়, তিরিশের পরে প্রথম বাচ্চা নেওয়াটা খুবই ঝুঁকির ব্যাপার। তাই যাঁদের বেশি বয়সে বিয়ে হবে তাঁদের এই ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হবে। যেটা শুধু তাঁর নিজের নয়, সন্তানের জন্যও বিপদের কারণ হতে পারে। আবার মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে হলেও বেশ কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে। অল্পবয়সী মেয়েদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণ খুব ঝুঁকির ব্যাপার। আমাদের দেশে মাতৃমৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ অল্প বয়সে সন্তান ধারণ। তাই বিয়ের জন্য বয়স বিবেচনা করাটা খুব জরুরি। এ ক্ষেত্রে ছেলেমেয়ের বয়সের
পার্থক্যের দিকটিও লক্ষ রাখতে হবে। বিয়ে শারীরিক ও মানসিক সফলতার জন্য পাত্রপাত্রীর বয়সের পার্থক্য ১০ বছরের মধ্যে থাকাটা ভালো।বংশগত রোগসাধারণত যে ধরনের বংশগত রোগ বেশি দেখা যায় সেগুলো হলো থ্যালাসেমিয়া, মাসকুলার ডিসট্রফি (মাংসপেশিতে একধরনের দুর্বলতা), নার্ভের বিশেষ কয়েকটি অসুখ, এপিলেপ্টিক ডিজঅর্ডার (মৃগী রোগ), মানসিক অসুস্থতা_যেমন সিজোফ্রেনিয়া, ডিপ্রেশন, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, বিশেষ কয়েক ধরনের ক্যান্সার, যেমন ব্রেস্ট ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ (উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোক), ডায়াবেটিস, অস্টিওপোরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ওবেসিটি, অ্যাজমা, গ্লুকোমা ইত্যাদি।সন্তানদের মধ্যে সংক্রমিত হয় এমন কিছু বংশগত রোগ রয়েছে, যা শারীরিকভাবে প্রকাশিত না-ও হতে পারে। মূলত শারীরিকভাবে প্রকাশিত হয় না এমন রোগের জন্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিয়ে আত্মীয়দের মধ্যে হলে বা একই গোত্রভুক্ত হলে বিয়ের আগেই এ ধরনের পরীক্ষা করা জরুরি। বংশগত রোগের ক্ষেত্রে যেমন মা-বাবা দুজনের জিন থেকে অসুখ দেখা দেয়, আবার অনেক সময় মা-বাবা কোনো একজনের জিন থেকেও অসুখ হতে পারে। ছেলেমেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই বংশগত বা হেরিডিটারি ডিজিজের সমস্যা হতে পারে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেমন হিমোফেলিয়ার (রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা) সমস্যা, কালার ব্লাইন্ডনেসের মতো সমস্যা অনেক সময় মায়ের থেকে ছেলের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত মেয়েসন্তানরা আক্রান্ত হয় না। এমন অনেক ক্ষেত্রে জেনেটিক রোগ মহিলাদের মাধ্যমে পরিবাহিত হয় যেগুলো তারা বহন করে, কিন্তু রোগটি তার ক্ষেত্রে প্রকাশ পায় না। এটা ছেলেসন্তানদের মধ্যে সংক্রমিত হলে ক্ষতিকর হতে পারে। শরীর থেকে রক্ত বা টিস্যু নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে এ রোগগুলো নির্ণয় করা হয়।বন্ধ্যত্বযৌন অক্ষমতা বা ধ্বজভঙ্গ, অ্যাজোসপারমিয়া এবং সন্তান ধারণে অক্ষমতার মতো সমস্যা থাকলে দম্পতির ভবিষ্যৎ পরিণতি ভালো হয় না। হরমোন ও সিমেন (শুক্র-ধারক বীর্য) অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে এর একটি সমাধান পাওয়া সম্ভব। আশার কথা, ৯৮ শতাংশ তরুণেরই কোনো শারীরিক সমস্যা পাওয়া যায় না। মাত্র ২ শতাংশ তরুণের অ্যাজোসপারমিয়া বা সন্তান ধারণের অক্ষমতা ধরা পড়ে। বিয়ের মাধ্যমে মানুষ তার সন্তান কামনা করে এবং বংশগতি রক্ষা করে। বন্ধ্যত্ব হতে পারে পুরুষ-নারী উভয়ের। তেমনি বন্ধ্যত্ব হতে পারে পারিবারিক জীবনে চরম অশান্তির বড় কারণও। তাই আপাতদৃষ্টিতে এ-সংক্রান্ত পরীক্ষা নিষ্প্রয়োজন মনে হলেও চিকিৎসা দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।যৌন রোগবিয়ে বা শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে এমন কিছু রোগ ছড়ায়, যা সঙ্গীকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ইদানীং সিফিলিস, গনোরিয়া, জেনিটাল হারপিস, স্যানক্রয়েডসহ নানা যৌন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা করা যায়। তাই বিয়ের আগে সম্ভব হলে ভিডিআরএল, প্যাপস্মেয়ার ইত্যাদি পরীক্ষা করে (রোগ থাকলে) তার চিকিৎসা করে নিলে নিজের পরিবারটিই রোগমুক্ত থাকবে। তাই নিজ উদ্যোগে এ-জাতীয় পরীক্ষা করা দরকার।এ ছাড়া এইডসের মতো রোগের ঝুঁকি তো আছেই। এখন আর চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়ার সময় নেই যে এ-জাতীয় রোগ থেকে একজন মানুষ মুক্ত। তা ছাড়া বিজ্ঞানের এই যুগে সেটা ভাবাও বোকামি। তাই পরীক্ষা করে নিন।রক্তরোগবিয়ের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হলো রক্তের রোগ নির্ণয়, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়। রক্তের গ্রুপের ভিন্নতার কারণে পারিবারিক জীবনে কিছু জটিলতা হতে পারে। যাঁদের রক্তে আরএইচ ফ্যাক্টর নেই তাঁদের রক্তের গ্রুপ 'নেগেটিভ' বলা হয়, যেমন এ নেগেটিভ, বি নেগেটিভ ইত্যাদি। নেগেটিভ গ্রুপধারী কোনো নারীর সঙ্গে পজিটিভ গ্রুপধারী পুরুষের বিয়ে হলে তাঁদের সন্তান জন্মদানের সময় জটিলতা হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে। শিশুর মৃত্যু হতে পারে। এর পাশাপাশি থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া, রক্তের কোনো অসুখ আছে কি না পরীক্ষা করে জেনে নিতে হবে।পরীক্ষায় খারাপ কিছু পাওয়া গেলেএ ক্ষেত্রে নেগেটিভ চিন্তা বাদ দিয়ে আমাদের ভালো দিকটিকেই বেছে নিতে হবে। কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসা করে ভালো হওয়া সম্ভব।তবে এইডস বা এমন কোনো প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হলে তা গোপন না রেখে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকুন। যার সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছে বা যাকে জীবনসঙ্গী ঠিক করছেন তাঁকে বিষয়টি জানান। গোপন করবেন না।
Source: Daily kalerkantho

বেলুনে চড়ে বিয়ে

বেলুনে চড়ে বিয়ে

পিটিআই
বিশ্বজুড়ে ঘটন-অঘটনসহ কত কাহিনীই না শোনা যায়। মানুষের স্বপ্নের তো শেষ নেই। জীবনে নতুন কিছু-একটা করে দেখানো চাই। আর তাই নিজের জন্মদিন বা বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে চান অবাক করা কিছু-একটা করে। আমরা জানি কেউ বা বিয়ে করেছেন পাহাড়চূড়ায়, কেউ বা সাগরতলায়; পাহাড়ি ঝরনায় ভেলায় চেপেও বিয়ে করেছেন কেউ। আর এবার ভারতের এক দম্পতি তাদের বিয়েটা সেরে নিয়েছেন আকাশে বেলুনে ভেসে। আকাশে ভাসতে ভাসতেই প্রিয়তমা অমৃতাকে আংটি পরালেন কাঁকুরগাছির বাসিন্দা সন্তোষ জয়সোয়াল। ভিন্ন আঙ্গিকে বিয়ে করার এ শখ মেটাতে অবশ্য অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছে ৩১ বছর বয়সী সন্তোষকে। তিন মাস ধরে তাকে টানা যোগাযোগ রাখতে হয়েছে দিল্লির এক বেলুনিং ক্লাবের সঙ্গে। এজন্য বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয় ও ভারতের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতিও জোগাড় করতে হয়েছে তাকে। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সন্তোষ হঠাত্ বেলুনে চেপে বিয়ে করার ইচ্ছার ব্যাপারে বলতে গিয়ে জানিয়েছেন, ‘জীবনে তো বিয়ে একবারই করব। আর তাই নতুন কিছু করার চিন্তা-ভাবনা থেকেই এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।

Friday, October 8, 2010

অনন্য ভার্চুয়াল ঘটক সেনসিবল ম্যাচ

অনন্য ভার্চুয়াল ঘটক সেনসিবল ম্যাচ

সময় পরিক্রমায় ঘটকালির ধরনে পরিবর্তন এসেছে। পাত্র-পাত্রী দেখার দায়িত্ব আগে আত্মীয়স্বজন বা ঘটকদের মাধ্যমে সম্পন্ন হলেও এখন আর তেমনটি নেই। সময় বদলেছে। ব্যস্ত প্রাত্যহিক জীবনে মনের মতো জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার সময় পাচ্ছেন না ... সমস্যা নেই! ঘটকের বদলে পাত্র-পাত্রী খুঁজে দেওয়া বা 'ম্যাচমেকিংয়ের' দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছে হালের বিয়েবিষয়ক ওয়েবসাইট...
লিখেছেন হাসান জাকির


'বিবাহের পৌনঃপুনিক প্রস্তাবে তাহাদের [পাত্র-পাত্রী] পিতৃপক্ষের পাকা চুল কলপের আশীর্বাদে পুনঃপুনঃ কাঁচা হইয়া উঠে, আর প্রথম ঘটকালির আঁচেই ইহাদের কাঁচা চুল ভাবনায় একরাত্রে পাকিবার উপক্রম হয়।' ঘটকালি কাজটা যে এতটাই সহজ নয় তা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প 'হৈমন্তী'র এ দুটি লাইনে অনেকটাই স্পষ্ট। তবে সময় পরিক্রমায় ঘটকালির ধরনে পরিবর্তন এসেছে। পাত্র-পাত্রী দেখার দায়িত্ব আগে আত্মীয়স্বজন বা ঘটকদের মাধ্যমে সম্পন্ন হলেও এখন আর তেমনটি নেই। সময় বদলেছে। ব্যস্ত প্রাত্যহিক জীবনে মনের মতো জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার সময় পাচ্ছেন না ... সমস্যা নেই! ঘটকের বদলে পাত্র-পাত্রী খুঁজে দেওয়া বা 'ম্যাচমেকিংয়ের' দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছে হালের বিয়েবিষয়ক ওয়েবসাইটগুলো! এ যেন ভার্চুয়াল ঘটক। মনের মতো পাত্র-পাত্রীর সন্ধান পেতে সেনসিবলম্যাচ ডটকম [িি.িংবহংরনষবসধঃপয.পড়স] এমনই ব্যতিক্রমী ও নির্ভরযোগ্য সাইট। 'আমাদের দেশে বেশ কয়েক বছর ধরেই পাত্র-পাত্রী খোঁজার বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট থাকলেও মানের এবং চাহিদার দিক দিয়ে সেগুলো ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন মেটাতে পারছিল না। ব্যবহারকারীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে বিবেচনা করেই যাত্রা শুরু হয়েছে নতুন ভার্চুয়াল ম্যাচমেকার সাইট সেনসিবলম্যাচ ডটকমের। নান্দনিক ডিজাইন আর নতুন নতুন ফিচার নিয়ে চালু হওয়া এ ওয়েবসাইটটি চালুর অল্পদিনের মধ্যেই ব্যবহারকারীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে_ জানান সাইটটির ডেভেলপার মশিউল হক শোভন।
শুরুর কথা
বিয়ের জন্য পাত্র বা পাত্রী খোঁজা সহজ করে দিতেই বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে সেনসিবল ম্যাচ ডটকম নামে এ সাইটটি। িি.িংবহংরনষবসধঃপয.পড়স ঠিকানার এ সাইটটি তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কম্পিউটার প্রকৌশলী মশিউল হক। সাইটটি তৈরির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তিনি বলেন, বিয়ের বিষয়ে যখন মনস্থির করেছি তখন আমি যুক্তরাষ্ট্রে থাকি। এ সময় এ ধরনের একটি সাইটের প্রয়োজন বোধ করি। আমি ব্যক্তিগতভাবে উপলব্ধি করি, এ ধরনের কোনো সাইট আদৌ নেই। গত ৩ জুন রাজধানীর গুলশানের স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
সাইটটির কাজ
বিয়ের আগে পাত্রের যোগ্যতা অনুযায়ী যেমন পাত্রী প্রয়োজন, তেমনি পাত্রীপক্ষেরও জানার প্রয়োজন রয়েছে ছেলে সম্পর্কে। একে অন্যের সম্পর্কে জানা-বোঝার মাধ্যমেই কেবল বিয়ের মতো একটি সামাজিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকে। যোগ্যতা এবং চাহিদা অনুযায়ী পাত্র-পাত্রী খোঁজা নিতান্তই কম ঝক্কি-ঝামেলার নয়। ক্ষেত্রবিশেষে মাসের পর মাস কেটে গেলেও পছন্দের পাত্র-পাত্রী মেলাতে পারেন না অনেকে। দেখা যায়, পাত্রপক্ষ যেমন পাত্রী খুঁজছে, তেমনি একজন পাত্রীর অভিভাবকও এরকম একজন পাত্র খুঁজে ফিরছেন দীর্ঘদিন ধরে। কেবল একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগের অভাবেই তাদের 'খুঁজে ফেরা' সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। সেনসিবল ম্যাচ ডটকম এ সাইট ব্যবহারকারীদের মাঝে যোগাযোগ স্থাপনের কাজ করছে। সাইটটি থেকে পছন্দের পাত্র-পাত্রীর ছবি, জীবনবৃত্তান্ত, পছন্দ আর প্রত্যাশাসহ পারিবারিক বিস্তারিত তথ্যও জানা যাবে। চাইলে সাইটটির মাধ্যমেই পছন্দের পাত্র-পাত্রীর কাছে মেইল পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। পাত্র-পাত্রী বা তাদের সংশ্লিষ্ট যে কেউ এই ওয়েবসাইটে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবেন।
ঘটকালি বলে কথা!
ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাত্র-পাত্রী খোঁজা এখনও সমাজের সব পর্যায়ের মানুষের জন্য নিশ্চিত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানান, যারা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে প্রোফাইল আপলোড করে থাকেন তাদের প্রোফাইলই কেবল অন্য ব্যবহারকারীরা দেখার সুযোগ পান। আর যারা প্রোফাইলে ছবি আপলোড করেন তারা বেশিরভাগই সমাজের উচ্চবিত্ত বা উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের। ফলে সমাজের বেশিরভাগ মানুষের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না ম্যাচমেকার সাইটগুলোর মাধ্যমে। তবে এ ব্যাপারে সেনসিবলম্যাচ ডটকমের ডেভেলপার মশিউল হক বলেন, 'সব ধরনের পাত্র-পাত্রীর প্রোফাইল আপলোডে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে অনেক সাড়াও পাচ্ছি। আশা করছি সেনসিবলম্যাচ সব ধরনের মানুষের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।'
যদি না থাকে ইন্টারনেট সংযোগ সুবিধা...
কারও যদি ব্যক্তিগতভাবে ইন্টারনেট সংযোগ সুবিধা না থাকে? এ প্রসঙ্গে মশিউল হক বলেন, 'তারপরও সমস্যা নেই। সেনসিবলম্যাচ ডটকমের গুলশানে রয়েছে একটি অফিস, সেখানে এ সংক্রান্ত সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হয়।'
অফিসের কর্মীরাই অভ্যাগত বা তার পছন্দের যে কারও জন্য প্রোফাইল তৈরি করে ডাটাবেজে যুক্ত করে দেবেন। এরপর সেনসিবল কর্মীরা আপনার প্রোফাইলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ পাত্র-পাত্রী খুঁজে দেবেন। এ ব্যাপারে যে কোনো সময় আপগ্রেডও জেনে নিতে পারবেন কোনো গ্রাহক। তিনি আরও বলেন, 'পুরো ব্যাপারটিতে দেশজ ঐতিহ্যকে আমরা বড় করে দেখেছি। এ কারণে গুলশানের অফিসে পুরোদস্তুর ঘটকও রেখেছি আমরা। টেকনোলজির পাশাপাশি মানবিক স্পর্শের এ এক অপূর্ব সম্মিলন।' অনেকেই তার বিবাহযোগ্য কন্যার ছবি ইন্টারনেটে দিতে রাজি নন_ এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'শুধু ছবি কেন, যে কোনো পাত্র-পাত্রী তার যে কোনো তথ্য ইচ্ছা করলেই এখানে গোপন রাখতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া ছবিসহ কোনো তথ্যই অন্য কেউ এখান থেকে দেখতে বা জানতে পারবেন না। ... এটা কোনো ডেটিং সাইট নয়, যারা বিয়ে করতে চান তাদের জন্য এটি উপযুক্ত।'
নিজেই হয়ে যান পাত্র-পাত্রী
বয়স ৭২ কিংবা ২৭, যা-ই হোক না কেন, বিয়ের জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। প্রাপ্তবয়স্ক যে কেউ এ সাইটের সদস্য হয়ে তার জীবনসঙ্গী খুঁজে নিতে পারেন। সাইটটিতে যে কেউ নিজের বা আত্মীয়স্বজনের ছবি এবং অন্যান্য তথ্য আপলোড করতে পারেন। সাইটটিতে ঢুকে নিবন্ধন এবং ছবি আপলোড করে বিভিন্ন তথ্য যুক্ত করতে হবে। এজন্য সাইটটির হোমপেজে থাকা 'রেজিস্ট্রার ফ্রি' বাটনে ক্লিক করতে হবে। নতুন পেজে নাম এবং ই-মেইল ঠিকানা লিখে 'নেক্সট' বাটনে ক্লিক করতে হবে। পরবর্তী পেজে নাম-ঠিকানা এবং মোবাইল ফোন নম্বর লিখতে হবে। এরপর নেক্সট বাটন ক্লিক করে পরবর্তী পৃষ্ঠায় দুটি নিরাপত্তা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এরপর আবার ই-মেইল ঠিকানা এবং পাসওয়ার্ড লিখে নিবন্ধন সম্পূর্ণ এবং তথ্যাবলি আপডেট করতে হবে।